এক সিনেমার মহরত, আরও তিন সিনেমার ঘোষণা



এফডিসির ক্যানটিন সংলগ্ন জায়গাটি শনিবার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ছিল হলুদ, লাল, নীল, সবুজ বাতিতে আলো ঝলমলে। সেখানে বড় আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ‘বসন্ত বিকেল’ নামে এক সিনেমার মহরত। একইসঙ্গে ঘোষণা দেওয়া হয় আরও তিন সিনেমার।

‘বসন্ত বিকেল’ বানাচ্ছেন পরিচালক রফিক শিকদার। তার নির্দেশিত ‘ভোলা তো যায় না তারে’ নামে একটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। আরেক সিনেমা ‘হৃদয় জুড়ে’ রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়। মহরতে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-১ আসনের এমপি শামসুল হক টুকু, পাবনা-২ আসনের আহমেদ ফিরোজ কবির, অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মোজাম্মেল হক, প্রযোজক নেতা খোরশেদ আলম খসরু, শামসুল আলম, এমডি ইকবাল, পরিচালক নেতা মুশফিকুর রহমান গুলজার, বদিউল আলম খোকন প্রমুখ।


মহরতে আরও ছিলেন ‘বসন্ত বিকেল’ সিনেমার তিন অভিনয় শিল্পী শিপন মিত্র, সুবাহ, তানভীর। ছবিতে লগ্নি করছে আরবিএস টেক। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার শামসুজ্জামান রিমন। এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি রফিক শিকদারের ‘বসন্ত বিকেল’ সিনেমার মাধ্যমে প্রযোজনায় নামলো। মহরতে ঘোষণা দেওয়া হয়, আরও তিনটি সিনেমায় আরবিএস টেক লগ্নি করতে যাচ্ছে।





সেগুলো হচ্ছে, সাইফ চন্দনের পরিচালনায় ‘মন্ত্র’, মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের পরিচালনায় ‘অশ্রুঘর’ এবং রফিক শিকদারের আরেক সিনেমা ‘রেহনুমা’। ‘বসন্ত বিকেল’-এর পর পর্যায়ক্রমে সিনেমাগুলো নির্মিত হবে। ‘আব্বাস’-খ্যাত নির্মাতা চন্দন জানান, ‘মন্ত্র’ নিয়ে ইতোমধ্যেই তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি প্রি-প্রডাকশনের কাজ গোছাচ্ছেন। একই কথা বললেন সদ্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হওয়া ‘জান্নাত’-এর নির্মাতা মোস্তাফিজুর রহমান মানিক।

মহরত শেষে নির্মাতা রফিক শিকদার চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, তিনটি হিন্দু পরিবারকে নিয়ে ‘বসন্ত বিকেল’ সিনেমার গল্পের মূল প্লট। ৫ ডিসেম্বর থেকে শুটিং শুরু হবে। ঢাকাতে একটানা শুটিং করবো ১০ দিন। তারপর দেশের বাইরে কিছু কাজ হবে। সিনেমার শেষ অংশের শুটিং হবে পাবনায় সূচিত্রা সেনের বাড়িতে। শিপন, সুবাহ, তানভীর ছাড়াও ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করবেন সূচরিতা, ওমর সানি, শাহনূর। আরও দু-চারজন শিল্পী যোগ হতে পারেন।

তিনি বলেন, ‘বসন্ত বিকেল’ সিনেমায় গান করছেন ইমরান, সিঁথি সাহা প্রমুখ। গানের কথা লিখছেন সুদীপ কুমার দীপ , মাহতাব হোসেন। সিনেমাটি মুক্তি দিতে চাই আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে। যোগ করে তিনি বলেন, আরবিএস টেকের প্রথম প্রযোজনা ‘বসন্ত বিকেল’। প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত সিনেমা বানাবে। বসন্ত বিকেলের শুটিংয়ের মধ্যেই অন্য ছবিগুলোর প্রি-প্রডাকশন হতে থাকবে।

মেহেরপুরের বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করলেন প্রফেসর আব্দুল মান্নান



মেহেরপুর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রফেসর আব্দুল মান্নান মেহেরপুরের বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন।
বুধবার রাতে প্রফেসর আব্দুল মান্নান মেহেরপুরের শ্রী শ্রী স্বিদ্ধেশরী কালি মন্দির, নায়েব বাড়ি পূজা মন্দির, হালদার পাড়া মন্দির এবং সদর উপজেলার চাঁদবিল রাধা মানব মন্দির পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন কালে প্রফেসর আব্দুল মান্নান মন্দির কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকদের সাথে কথা বলেন। তিনি শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় স্থানীয় নেতা কর্মীরা প্রফেসর আব্দুল মান্নানের সাথে ছিলেন।

মেহেরপুর সদর উপজেলার চাঁদবিল গ্রামে অনীল ফকিরের লালন উৎসব


মেহেরপুর সদর উপজেলার চাঁদবিল গ্রামে অনীল ফকিরের   লালন উৎসব। জাত ধর্ম ভুলে গিয়ে জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলা থেকে সাধু ও বাউল শিল্পীরা ছুটে আসে এ মিলন মেলায়। লালন সাইয়ের, দর্শনত্ব, মানবতত্ব এবং আধ্যাত্মিক গানে গানে মেতে ওঠেন শিল্পিরা। জাতি ধর্ম নয় মানবের মুল মন্ত্র প্রচার করাই এ জগতের মুল কাজ বলে মনে করেন ফকির লালন শাহ ভক্তরা। আর এ কাজের মাধ্যমে শুধু বাউল ভক্তরা নয়, সারা বিশ্বের জ্ঞাণী গুনি মানুষেরা লালন সাইজির পথে আকৃষ্ট হচ্ছে। মানুষকে ভালবাসতে পারলে আল্লাহর নৈকট্য লাভ সহ সমাজে লোভ লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকারবোধ দূর করা সম্ভব বলে মনে করেন তারা। অনুষ্ঠানে গানে গানে লালন সাইয়ের আদর্শ প্রচার করেন তারা। সাইজর প্রতিটি কথা সরল আত্মার কথা। তাঁর গানের মূল বিষয় হলো মানবতত্ব। মানুষের মাঝে স্রস্টার অস্তিত্ব আছে। এ কথাগুলো তাঁরা গানের মাধ্যমে প্রচার করেন।

ফকির ইনছান জানান, সাইজি শিখিয়েছেন মানব-ই বড় ধর্ম। সে আদর্শ প্রচার করছেন লালন ভক্ত ও শিল্পীরা। গানে গানে লালনের আদর্শ তুলে ধরেন তারা। এছাড়াও মানুষ ভজলে

লালনের আর্ধ্যাতিকতত্ব, দর্শনতত্ব ও মানবধর্ম মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে মেহেরপুরের চাঁদবিলে আয়োজন করা হয়েছে দু’দিনব্যাপী লালন উৎসব। দূর-দূরান্ত থেকে অগণিত লালন ভক্ত ও বাউল শিল্পীরা জড়ো হয়েছে এখানে। গানে গানে লালন সাইয়ের দর্শন প্রচার করছেন তারা। তবে লালনের গান ও সাধু সঙ্ঘগুলো সাইজির দর্শনের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন লালন গবেষকরা। গানগুলো আধুনিকায়নের নামে বিকৃতি করা হচ্ছে। এছাড়াও পালা গানের নামে অন্য দর্শনের গান পরিবেশন করা হচ্ছে লালন উৎসবগুলোতে। এগুলো বন্ধের দাবি তাদের।

চাঁদবিলের পণ্যের কদর দেশজুড়ে


মেহেরপুর সদর উপজেলার চাঁদবিল গ্রামের পালবাড়ির তৈরি মাটির তৈজসপত্রের কদর দেশজুড়ে। এঁটেল মাটি দিয়ে তৈরি মুড়িভাজা হাঁড়ি, রুটি বানানোর তাওয়া, মালসা পানির কলস, ফুলের টব, ফুলদানি দেব-দেবীর মূর্তিসহ ঘর সাজানোর বিভিন্ন তৈজসপত্রের কদর শুধু প্রত্যন্ত জনপদের মানুষের কাছে নয় বরং সুদূর যশোর খুলনাসহ ঢাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। কালের বিবর্তনে আধুনিক প্রযুক্তির উৎপাদিত অ্যালুমিনিয়াম আর প্লাস্টিকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এখনো প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার বাপ-দাদার পেশা আঁকড়ে ধরে আছেন। মেহেরপুর শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরের আমঝুপি ইউনিয়নের জনপদ চাঁদবিল। এই গ্রামের নারী-পুরুষ সবাই কাঁদা-মাটির গন্ধমাখা শরীর। এদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হয় মাটির নানা তৈজসপত্র। মাটির হাঁড়ি, সরা, ভাড়, কলস, রসের কলসি, তাওয়া, নান্দা, ফুলের টব, দেব- দেবীর মূর্তিসহ আরও কত কিছু। প্লাস্টিক আর অ্যালুমিনিয়ামের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তাদের তৈরি তৈজসপত্রের মান ও চাহিদা এখনো সমান তালে। বয়সের ভারে ক্লান্ত চাঁদবিলের বিষ্ণু পাল। আজও বাপ-দাদার পেশা নিয়ে বেঁচে আছেন। নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি করছেন নানা তৈজসপত্র। তিনি বলেন, ১৯৫৪ সাল থেকে তিনি সেখানে বসবাস করছেন এবং মাটির মায়ায় জড়িয়ে আছেন। নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি করছেন বিভিন্ন তৈজসপত্র। আর এসব তৈজসপত্র দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যাচ্ছেন পাইকারি ক্রেতারা। জগন্নাথ পালের স্ত্রী সুমিতা পাল জানান, কিশোর বয়সে বাবা-মা'র দেখাদেখি এই কুমোর পেশার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। রাত-দিন কাদামাটির কাজ করে মাটির মানুষ হয়ে গেছেন তিনি। সংসারে ৬ মেয়ে ২ ছেলে। এই পেশার আয় থেকে তিনি দুই বিঘা জমি কিনেছেন, পাকা দালান গড়েছেন। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাচ্ছেন। তিনি বলেন, আগে মাটি এমনিই পাওয়া যেত। এখন মাটি কিনতে হয় বলে তাদের উৎপাদিত সামগ্রীর দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রবীণ কুমোর হিসেবে পরিচিত হৈমন্তি পাল ও তার স্ত্রী কাবরুলী বালা এখনো এ পেশায় নিয়োজিত। ছেলে জিতেন গ্রামে কামলা খাটার পাশাপাশি এ কাজ করেন। হৈমন্তি পাল মাটির পাত্র তৈরি করেন আর আধা শুকনো হলে তাতে নানা রকমের নকশা করেন স্ত্রী কাবরুলী বালা। এদের কাজে নিপুণতা ও সৌন্দর্য আছে। তাদের ডোরাকাটা ফুলের টবের চাহিদা আছে। তাদের তৈরি টব ঢাকা, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহর থেকে এসে কিনে নিয়ে যায়। নবীন পাল জানান, মাটির তৈরি অন্যান্য জিনিসের পাশাপাশি বেড়েছে পোড়ামাটির রিংয়ের চাহিদা। স্বল্প খরচে ভূগর্ভস্থ ট্যাংক তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে এই রিং দিয়ে। যেখানে ইট, বালি, সিমেন্ট দিয়ে একটি ট্যাংক তৈরি করতে খরচ হয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। সেখানে রিং দিয়ে সমপরিমাণ ট্যাংক তৈরি করতে খরচ হয় সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। যার কারণে মানুষের কাছে রিংয়ের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। আমঝুপি ইউনিয়নের প্রবীণ ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলাম বাবলু জানান, আমঝুপির চাঁদবিল গ্রামের কুমোরদের তৈরি সামগ্রীর এলাকায় যথেষ্ট চাহিদা। মানও ভালো। এ জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এই গ্রামে এসে বিভিন্ন সামগ্রী কিনে নিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে বিক্রি করে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, প্রশিক্ষণ এবং বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করা গেলে এই কুমোরদের ব্যস্ততা আরও বেড়ে যাবে এবং এখানে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

মেহেরপুরের আমঝুপিতে এস এম ফুটবল টুর্নামেন্টে চাঁদবিল একাদশ জয়ী


গতকাল মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি মাধ্যেমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত এস এম ফুটবল টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ খেলায় চাঁদবিল একাদশ ২–১ গোলে শ্যামপুর একাদশকে পরাজিত করে। খেলার প্রথমার্ধে ১০ মিনিটে শ্যামপুর একাদশ চাঁদবিল একাদশের জালে ১টি গোল করে এগিয়ে যায় এরপর খেলার ২০ মিনিটে পেলানটি শূটে ১টি গোল পরিশোধ করে। 

দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে চাঁদবিল একাদশ শ্যামপুর একাদশের উপর চাপ সৃষ্টি করে খেলতে থাকে খেলার শেষ ভাগে চাঁদবিল আরও ১টি গোলে করে জয় নিশ্চিত। চাঁদবিল একাদশের পক্ষে শরিফুল ইসলাম ২টি গোল করে। শ্যামপুর একাদশের পক্ষে শাকিল ১টি গোল করে। সূত্রঃ আমাদের মেহেরপুর ডট কম