আমঝুপি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদকের খাদ্য দ্রব্য বিতরন


 


আমঝুপি ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সাধারন সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তারিক এর নিজস্ব অর্থায়নে গরিব অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য দ্রব্য বিতরন করা হয়।


সোমবার বিকেলের দিকে চাঁদবিল বাজার এলাকায় এসকল খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। আমঝুপি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তারিক উপস্থিত থেকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।


এসময় অন্যদের মধ্যে সভাপতি চাঁদবিল গ্রাম আওয়ামী আরিফুল ইসলাম আরিফ, চাঁদবিল বাইতুল আমান জামে মসজীদের ইমাম আব্দুল বারি, হাফেজ তারিকুল, যুবলীগ নেতা সোহেল টুটুল সুমন সারেজুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে সেখানে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

মেহেরপুরের বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করলেন প্রফেসর আব্দুল মান্নান



মেহেরপুর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রফেসর আব্দুল মান্নান মেহেরপুরের বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন।

বুধবার রাতে প্রফেসর আব্দুল মান্নান মেহেরপুরের শ্রী শ্রী স্বিদ্ধেশরী কালি মন্দির, নায়েব বাড়ি পূজা মন্দির, হালদার পাড়া মন্দির এবং সদর উপজেলার চাঁদবিল রাধা মানব মন্দির পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন কালে প্রফেসর আব্দুল মান্নান মন্দির কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকদের সাথে কথা বলেন। তিনি শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় স্থানীয় নেতা কর্মীরা প্রফেসর আব্দুল মান্নানের সাথে ছিলেন।

মেহেরপুরে চাঁদবিল গ্রামে ১৬ জুলাই থেকে মহানামযজ্ঞ শুরু



মেহেরপুর সদর উপজেলার চাঁদবিল সার্বজনীন নামযজ্ঞ কমিটির উদ্যোগে ১৬ জুলাই থেকে চাঁদবিল শ্রী শ্রী রাধাশ্যাম মন্দির প্রাঙ্গনে ২৪ প্রহর ব্যাপী মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে। রবিবার রাধাশ্যাম মন্দিরে ক্ষুদিরাম হালদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মহানামযজ্ঞের দিন চূড়ান্ত করা হয়। মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠানে ঢাকার জয় মহাপ্রভু সম্প্রদায়, ফরিদপুর রাধা গোবিন্দ সম্প্রদায়, মাদারীপুর স্বরতী সম্প্রদায়, মাগুরা রূপ মাধুরী সম্প্রদায়, রাজবাড়ী বাসুদেব সম্প্রদায় এবং চাঁদবিলের শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ সম্প্রদায় কির্তণ পরিবেশন করবেন।

মেহেরপুরের বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করলেন প্রফেসর আব্দুল মান্নান



মেহেরপুর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রফেসর আব্দুল মান্নান মেহেরপুরের বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন।
বুধবার রাতে প্রফেসর আব্দুল মান্নান মেহেরপুরের শ্রী শ্রী স্বিদ্ধেশরী কালি মন্দির, নায়েব বাড়ি পূজা মন্দির, হালদার পাড়া মন্দির এবং সদর উপজেলার চাঁদবিল রাধা মানব মন্দির পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন কালে প্রফেসর আব্দুল মান্নান মন্দির কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকদের সাথে কথা বলেন। তিনি শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় স্থানীয় নেতা কর্মীরা প্রফেসর আব্দুল মান্নানের সাথে ছিলেন।

ময়নুদ্দিন আল চিশতী স্বরণে ওরশ মোবারক

মেহেরপুর সদর উপজেলার চাঁদবিল গ্রামে খাজা ময়নুদ্দিন আল চিশতী স্বরণে ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার রাতে এ ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়। আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আব্দুল বারী, ফরহাদ হোসেন, আব্দুর রহমান প্রমুখ।

এমপি ফরহাদ হোসেনের নামযজ্ঞ পরিদর্শন



মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেন মেহেরপুর সদর উপজেলা চাঁদবিল শ্রী শ্রী রাধাশ্যাম মন্দিরে অনুষ্ঠিত ২৪ প্রহর ব্যাপী মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান পরিদর্শণ করেন। বৃহষ্পতিবার রাতে সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন রাতে অনুষ্ঠান স্থলে পৌছালে নামযজ্ঞ অনুষ্ঠানের সভাপতি ও মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী খুদিরাম হালদার তাকে স্বাগত জানান। সংসদ সদস্য বেশ কিছু সময় অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

মেহেরপুর সদর উপজেলার চাঁদবিল গ্রামে অনীল ফকিরের লালন উৎসব


মেহেরপুর সদর উপজেলার চাঁদবিল গ্রামে অনীল ফকিরের   লালন উৎসব। জাত ধর্ম ভুলে গিয়ে জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলা থেকে সাধু ও বাউল শিল্পীরা ছুটে আসে এ মিলন মেলায়। লালন সাইয়ের, দর্শনত্ব, মানবতত্ব এবং আধ্যাত্মিক গানে গানে মেতে ওঠেন শিল্পিরা। জাতি ধর্ম নয় মানবের মুল মন্ত্র প্রচার করাই এ জগতের মুল কাজ বলে মনে করেন ফকির লালন শাহ ভক্তরা। আর এ কাজের মাধ্যমে শুধু বাউল ভক্তরা নয়, সারা বিশ্বের জ্ঞাণী গুনি মানুষেরা লালন সাইজির পথে আকৃষ্ট হচ্ছে। মানুষকে ভালবাসতে পারলে আল্লাহর নৈকট্য লাভ সহ সমাজে লোভ লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকারবোধ দূর করা সম্ভব বলে মনে করেন তারা। অনুষ্ঠানে গানে গানে লালন সাইয়ের আদর্শ প্রচার করেন তারা। সাইজর প্রতিটি কথা সরল আত্মার কথা। তাঁর গানের মূল বিষয় হলো মানবতত্ব। মানুষের মাঝে স্রস্টার অস্তিত্ব আছে। এ কথাগুলো তাঁরা গানের মাধ্যমে প্রচার করেন।

ফকির ইনছান জানান, সাইজি শিখিয়েছেন মানব-ই বড় ধর্ম। সে আদর্শ প্রচার করছেন লালন ভক্ত ও শিল্পীরা। গানে গানে লালনের আদর্শ তুলে ধরেন তারা। এছাড়াও মানুষ ভজলে

লালনের আর্ধ্যাতিকতত্ব, দর্শনতত্ব ও মানবধর্ম মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে মেহেরপুরের চাঁদবিলে আয়োজন করা হয়েছে দু’দিনব্যাপী লালন উৎসব। দূর-দূরান্ত থেকে অগণিত লালন ভক্ত ও বাউল শিল্পীরা জড়ো হয়েছে এখানে। গানে গানে লালন সাইয়ের দর্শন প্রচার করছেন তারা। তবে লালনের গান ও সাধু সঙ্ঘগুলো সাইজির দর্শনের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন লালন গবেষকরা। গানগুলো আধুনিকায়নের নামে বিকৃতি করা হচ্ছে। এছাড়াও পালা গানের নামে অন্য দর্শনের গান পরিবেশন করা হচ্ছে লালন উৎসবগুলোতে। এগুলো বন্ধের দাবি তাদের।

অনলাইন শিক্ষার অভিনব পদ্ধতি উদ্ভাবনঃ উদ্ভাবক শামসুজ্জামান রিমন (চাঁদবিলের ছেলে)

Continuing Education Management

বিশ্বের ২৮ কোটি বাংলা ভাষাভাষির জন্য উদ্ভাবিত হয়েছে অভিনব অনলাইন শিক্ষা পদ্ধতি। কম্পিউটার আর ইন্টারনেট কানেকশন থাকলে ঘরে বসেই ক্লাস, লাইব্রেরি, পরীক্ষা ও সরাসরি শিক্ষকের সহায়তা পাওয়া সম্ভব। বিডি ছাত্রডটকম নামের ওয়েবসাইট থেকে এসব সুবিধা পাওয়া যাবে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে আরবিএস টেক লিমিটেড নামের স্বনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠান। এর স্বত্বাধিকারি শামসুজ্জামান রিমন। তাদের উদ্যোগেই সমপ্রতি এ ওয়েবসাইটটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের কারিগরি সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে ওই সাইট। শিক্ষাপিপাসুরা বিনামূল্যেই সাইট থেকে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। শুধু শিক্ষার্থী নয় শিক্ষকরাও এ থেকে উপকৃত হতে পারেন। শিগগিরই বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাইটটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হচ্ছে। সাইটটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ৪ ভাগে ভাগ করে সাজিয়েছে। এগুলো হচ্ছে- প্রাথমিক ধাপ, মাধ্যমিক ধাপ, উচ্চ মাধ্যমিক ধাপ ও উচ্চতর শিক্ষা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে তারাই প্রথমবারের মতো শিক্ষা ব্যবস্থায় এ ধরনের বিশাল পরিসরে সাজিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ওয়েব সাইটটি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে তৈরি হচ্ছে না, দেশের বৃহত্তম স্বার্থের কথা চিন্তা করেই এটা তৈরি করা হচ্ছে। বিডি ছাত্রডটকম ওয়েবসাইটের শিক্ষা উপকরণ দ্বারা গ্রাম ও শহরে দরিদ্র ও ধনী সকলে পাবে অভিন্ন ও চমৎকার শিক্ষা উপকরণসহ শিক্ষা পদ্ধতি। বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির যুগে সকল ছাত্রছাত্রী পাবে জ্ঞানচর্চার জন্য সহজ ও সুন্দর এবং খুব তাড়াতাড়ি শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন জটিল সমস্যার সমাধান। এতে ১ম শ্রেণী হতে শুরু করে স্নাতকোত্তর শ্রেণী পর্যন্ত সকল ছাত্রছাত্রীর জন্য বিভিন্ন প্রশ্নের সহজ সুন্দর ও মননশীল সমাধানসহ গাইড লাইন সরবরাহ করবে। এতে আরও আছে ই-ইডুকেশন সিস্টেম। এর মাধ্যমে কয়েক মিনিটের মধ্যে শিক্ষার্থীরা সব জটিল প্রশ্নের সহজ ও সাবলীল সমাধান পাবেন। এতে আরও আছে ভিডিও ইডুকেশন পদ্ধতি। এর মাধ্যমে ঘরে বসে পাওয়া যাবে দেশের বিভিন্ন ভাল বিদ্যালয়ের মানসম্পন্ন শিক্ষকের গুণগতমানের উন্নত শিক্ষাদান পদ্ধতি। এছাড়াও রয়েছে প্রশ্ন সমস্যা সমাধানের জন্য তৎক্ষণাৎ ম্যাসেজিং বা চ্যাটিং পদ্ধতি। এতে শিক্ষার্থীরা ওয়েবসাইটের চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে খুব সহজেই সমাধান করতে পারবে। এজন্য ওয়েবসাইটে সার্বক্ষণিক থাকবেন অভিজ্ঞ ও দক্ষ স্বনামধন্য শিক্ষক। নতুন এ পদ্ধতিতে বিসিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। তারা ঘরে বসে বা সাইবার ক্যাফের দোকানগুলোতে গিয়ে খুব সহজে এবং দ্রুত ওয়েবসাইটে ঢুকে ফ্রি মডেল টেস্টে পরীক্ষা দিতে পারবে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করার পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে স্নাতক শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে পিএইচ-ডি পর্যন্ত উচ্চতর শিক্ষার ধাপ সংযুক্ত হয়েছে এই ওয়েবসাইটটিতে। এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করার পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে স্পেশাল ফ্রি মডেল টেস্ট পরীক্ষার ব্যবস্থা। পাশাপাশি বিসিএস, ব্যাংক এবং বিভিন্ন চাকরি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ঘরে বসে কোচিং ও উন্নতমানের মডেল টেস্ট পরীক্ষার সুবিধা। এদিকে ওয়েবসাইটে আছে অনলাইন লাইব্রেরি যেখানে ১ম শ্রেণী থেকে পিএইচ-ডি পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর জন্য বই ও বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ।

এ প্রসঙ্গে সাইটটির উদ্ভাবক শামসুজ্জামান রিমন বলেন, বিডি ছাত্রডটকম হতে যাচ্ছে তথ্য ও প্রযুক্তির যুগে ডিজিটাল বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীদের বিশেষ ও আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি ও অফুরন্ত শিক্ষা উপকরণের অন্যতম সামাজিক ওয়েবসাইট। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতি, অর্থনৈতিক, শিক্ষা, সংস্কৃতিতে সবার আগে দ্রুত বিশ্বের সকল দেশের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বংশানুক্রমিক পেশাগত বৃত্তি অবলম্বন করে নিশ্চিত জীবনযাপনের দিন এখন নেই বললেই চলে। তিনি বলেন, সাইটটি দেশের উন্নতি ও ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞান ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করতে কাজ করে যাচ্ছে। সমপূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এটা তৈরি করা হয়েছে। সরকারি অনুদান পেলে সাইটটিকে হয়তো আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। সূত্রঃ মানবজমিন

চাঁদবিলের পণ্যের কদর দেশজুড়ে


মেহেরপুর সদর উপজেলার চাঁদবিল গ্রামের পালবাড়ির তৈরি মাটির তৈজসপত্রের কদর দেশজুড়ে। এঁটেল মাটি দিয়ে তৈরি মুড়িভাজা হাঁড়ি, রুটি বানানোর তাওয়া, মালসা পানির কলস, ফুলের টব, ফুলদানি দেব-দেবীর মূর্তিসহ ঘর সাজানোর বিভিন্ন তৈজসপত্রের কদর শুধু প্রত্যন্ত জনপদের মানুষের কাছে নয় বরং সুদূর যশোর খুলনাসহ ঢাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। কালের বিবর্তনে আধুনিক প্রযুক্তির উৎপাদিত অ্যালুমিনিয়াম আর প্লাস্টিকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এখনো প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার বাপ-দাদার পেশা আঁকড়ে ধরে আছেন। মেহেরপুর শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরের আমঝুপি ইউনিয়নের জনপদ চাঁদবিল। এই গ্রামের নারী-পুরুষ সবাই কাঁদা-মাটির গন্ধমাখা শরীর। এদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হয় মাটির নানা তৈজসপত্র। মাটির হাঁড়ি, সরা, ভাড়, কলস, রসের কলসি, তাওয়া, নান্দা, ফুলের টব, দেব- দেবীর মূর্তিসহ আরও কত কিছু। প্লাস্টিক আর অ্যালুমিনিয়ামের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তাদের তৈরি তৈজসপত্রের মান ও চাহিদা এখনো সমান তালে। বয়সের ভারে ক্লান্ত চাঁদবিলের বিষ্ণু পাল। আজও বাপ-দাদার পেশা নিয়ে বেঁচে আছেন। নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি করছেন নানা তৈজসপত্র। তিনি বলেন, ১৯৫৪ সাল থেকে তিনি সেখানে বসবাস করছেন এবং মাটির মায়ায় জড়িয়ে আছেন। নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি করছেন বিভিন্ন তৈজসপত্র। আর এসব তৈজসপত্র দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যাচ্ছেন পাইকারি ক্রেতারা। জগন্নাথ পালের স্ত্রী সুমিতা পাল জানান, কিশোর বয়সে বাবা-মা'র দেখাদেখি এই কুমোর পেশার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। রাত-দিন কাদামাটির কাজ করে মাটির মানুষ হয়ে গেছেন তিনি। সংসারে ৬ মেয়ে ২ ছেলে। এই পেশার আয় থেকে তিনি দুই বিঘা জমি কিনেছেন, পাকা দালান গড়েছেন। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাচ্ছেন। তিনি বলেন, আগে মাটি এমনিই পাওয়া যেত। এখন মাটি কিনতে হয় বলে তাদের উৎপাদিত সামগ্রীর দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রবীণ কুমোর হিসেবে পরিচিত হৈমন্তি পাল ও তার স্ত্রী কাবরুলী বালা এখনো এ পেশায় নিয়োজিত। ছেলে জিতেন গ্রামে কামলা খাটার পাশাপাশি এ কাজ করেন। হৈমন্তি পাল মাটির পাত্র তৈরি করেন আর আধা শুকনো হলে তাতে নানা রকমের নকশা করেন স্ত্রী কাবরুলী বালা। এদের কাজে নিপুণতা ও সৌন্দর্য আছে। তাদের ডোরাকাটা ফুলের টবের চাহিদা আছে। তাদের তৈরি টব ঢাকা, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহর থেকে এসে কিনে নিয়ে যায়। নবীন পাল জানান, মাটির তৈরি অন্যান্য জিনিসের পাশাপাশি বেড়েছে পোড়ামাটির রিংয়ের চাহিদা। স্বল্প খরচে ভূগর্ভস্থ ট্যাংক তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে এই রিং দিয়ে। যেখানে ইট, বালি, সিমেন্ট দিয়ে একটি ট্যাংক তৈরি করতে খরচ হয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। সেখানে রিং দিয়ে সমপরিমাণ ট্যাংক তৈরি করতে খরচ হয় সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। যার কারণে মানুষের কাছে রিংয়ের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। আমঝুপি ইউনিয়নের প্রবীণ ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলাম বাবলু জানান, আমঝুপির চাঁদবিল গ্রামের কুমোরদের তৈরি সামগ্রীর এলাকায় যথেষ্ট চাহিদা। মানও ভালো। এ জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এই গ্রামে এসে বিভিন্ন সামগ্রী কিনে নিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে বিক্রি করে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, প্রশিক্ষণ এবং বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করা গেলে এই কুমোরদের ব্যস্ততা আরও বেড়ে যাবে এবং এখানে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন